শনিবার , ০১ আগস্ট ২০২৬

প্রবাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের উপর শোষণ ও ঋণদাসত্বের অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের উপর  শোষণ ও ঋণদাসত্বের অভিযোগ

গত এক দশকে আট লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেছেন। ব্লুমবার্গের শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তাদের অনেকেই অন্য দেশের শ্রমিকের তুলনায় অনেক বেশি নিয়োগ ফি দিতে গিয়ে ভারী ঋণের বোঝা নিয়ে শোষিত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে কাজের প্রতিশ্রুতি শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছিল, অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবে মেলেনি। সরকারি কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্ট, শ্রম বিশ্লেষক ও অভিবাসীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া গভীরভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত।

মূল অভিযোগ

  • বেসরকারি মধ্যস্বত্বভোগী ও সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল যৌথভাবে শ্রমিকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আদায় করছে।
  • এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ঋণদাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম এবং মানবপাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
  • মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন এলিটদের একাংশ এসব অনিয়ম জানলেও নিয়োগ ফি থেকে লাভবান হওয়ায় পদক্ষেপ নেননি।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের অবস্থা

  • দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি পাঁচটি চাকরির একটি করছেন অভিবাসীরা।
  • বাংলাদেশি শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ও শোষিত। ভিসা জটিলতা ও ঋণের চাপের কারণে তারা চাকরি বদলাতে বা অভিযোগ জানাতে সাহস পান না।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা

  • এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে বেস্টিনেট, একটি ডিজিটাল রিক্রুটমেন্ট প্ল্যাটফর্ম।
  • প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে সমালোচকরা বলছেন, প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একচেটিয়া নিয়োগ কাঠামো গড়ে উঠেছে, যা শ্রমিকদের খরচ দ্বিগুণ করেছে।

প্রতি শ্রমিকের নিয়োগ ব্যয় বেড়ে সর্বোচ্চ ৬,৬০০ ডলার, যা ইন্দোনেশিয়া বা নেপালের শ্রমিকদের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ

  • বাংলাদেশে ডজনের বেশি রিক্রুটিং এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • মানবপাচার, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচারের অভিযোগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কাউকে প্রত্যর্পণ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞের মন্তব্য

এক শ্রম অধিকারকর্মী মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমপথ এশিয়ার সবচেয়ে শোষণমূলক রুটগুলোর একটি। দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে শ্রমিকদের ভার বহন করতে হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়